একটা বাচ্চা ভালো আচরণ করে, তার মানে কি সে ভালো আছে?
আমরা ছোটবেলায় যা পেয়েছি, আমাদের বাচ্চাদের যা দিই, এবং প্যারেন্টিং বলতে আসলে কী বোঝায়—তা নতুন করে ভাবা।
আমরা ছোটবেলায় যা পেয়েছি, আমাদের বাচ্চাদের যা দিই, এবং প্যারেন্টিং বলতে আসলে কী বোঝায়।
দ্য প্যারেন্টিং প্লেবুক — পর্ব ১
বড় হয়ে ওঠার সময় আমাদের বাবা-মা বারবার বলতেন যে আমরা কতটা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বড় হচ্ছি। তারা নাকি পাহাড় পাড়ি দিয়ে এবং নদী সাঁতরে স্কুলে যেতেন। আর আমাদের জন্য টেবিলেই খাবার তৈরি, স্কুলে যাওয়ার জন্য রিকশা ready। আমাদের মাথার ওপর ছাদ ছিল। আমাদের আরও কৃতজ্ঞ বোধ করা দরকার। আর কৃতজ্ঞতার অর্থ ছিল, অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি প্লেটের সব খাবার শেষ করা। শুধু পেট ভরে যাওয়াটাই যথেষ্ট ছিল না। কেউ না কেউ সেই খাবার জোগাড় করতে কষ্ট করেছে, এবং আমাদের পেট থেকে আশা করা হতো সেই ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর। শারীরিক শাস্তি বা মারধরও এর একটা অংশ ছিল। শাসন করাটা ছিল আমাদের বাবা-মায়ের একরকম দায়িত্ব। তারা যদি আমাদের শাসন না করতেন, তবে তারা আমাদের প্রতি অবিচার করতেন। আমাদের সঠিকভাবে বড় করার অর্থ ছিল আমরা যেন ভালোমতো আচরণ করতে জানি, তা নিশ্চিত করা।
কিন্তু এখন আমরা আমাদের বাচ্চাদের তাদের শরীরের কথা শুনতে বলি। যদি তোমার পেট ভরে যায়, তবে সব খাবার শেষ করতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমরা পরের বার কম করে খাবার দিতে পারি। দুপুরের খাবার যে তুমি খুব পছন্দ করেছ তা প্রমাণ করার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের সীমানা পেরিয়ে অতিরিক্ত খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা আরও দয়াশীল হওয়ার চেষ্টা করি। আমরা জিনিসগুলো বুঝিয়ে বলি। তাদের অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করি।
আর তারপরও দেখা যায়, আমরা সুপারমার্কেটের মাঝখানে এমন এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছি যেখানে একটি কান্নাকাটিকারী বাচ্চা চিৎকার করে বলছে, “I hate you!”
ঠিক সেই মুহূর্তে মনে হয়, আব্বা-আম্মারাই হয়তো ঠিক ছিলেন। কারণ আমরা তো বেশ ভালো আচরণ করতাম। যদিও আমাদের অনেকেরই মাথার ভেতরে কিছু না কিছু trauma বা মানসিক আঘাতের ভাণ্ডার রয়েছে, কিন্তু আমাদের আচরণ?
একদম চমৎকার!
সমস্যা হলো, “ভালো আচরণ” কেবল মানুষ বাইরে থেকে যা দেখতে পায় সেটুকুই বলে। ভালো আচরণ দিয়ে বোঝার কোনো উপায় নেই যে একটি বাচ্চা সত্যি অর্থে কেমন অনুভব করছে। একটি শান্ত বাচ্চা হয়তো কোনো নিয়ম বুঝতে পেরেছে। অথবা সে হয়তো কথা না শুনলে কী হবে, সেই ভয়ে নিয়ম মেনে চলছে। বাইরে থেকে দেখলে এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন।
তার মানে এই নয় যে শৈশবের প্রতিটি সমস্যাই প্যারেন্টিং থেকে আসে, বা সুপারমার্কেটে চিৎকার করা একটি বাচ্চা প্রমাণ করে যে তার অভিভাবক ঠিক কাজ করছেন। এর মানে হলো, গলার জোর দিয়ে মাপা যায় না যে সত্যি অর্থে প্যারেন্টিং সফল হচ্ছে কি না।
আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) বলে যে বাচ্চাদের গায়ে হাত না তুলে, হুমকি না দিয়ে বা লজ্জা না দিয়ে তাদের শিক্ষা দেওয়া এবং পথ দেখানো উচিত। কোনো আচরণকে তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দিতে পারা মানেই কি তা সামলানোর উপায় বাচ্চাটিকে শিখিয়ে দেওয়া? AAP-এর discipline guidance
প্যারেন্ট হওয়ার পর থেকে আমার মনে এই সংশয় তৈরি হয়েছে যে আমরা কি সত্যিই প্রজন্মগুলোকে এভাবে পরিষ্কারভাবে ভাগ করতে পারি—কারা ভুল করেছিল আর কারা এখন ভালো বোঝে?
আমার মা আমাকে মেরেছেন। আবার তিনি আমাকে স্কুলেও পাঠিয়েছেন। তার বাবা-মা তাকে পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হতে দেননি; তার বদলে নবম শ্রেণির পরেই তাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। এমনকি তার বাবাকে primary school-এও পাঠানো হয়নি; দশ বছর বয়সী একটি বাচ্চাকে কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ইতিহাসের মধ্যে যেমন অগ্রগতি আছে, তেমনই ক্ষতি বা কষ্টের চিহ্নও রয়েছে।
দুটোর একটিকেও অস্বীকার না করে দুটোকেই কি মেনে নেওয়া সম্ভব?
আমি দেখতে পাই কীভাবে আমার মা আমাকে এমন কিছু সুযোগ করে দিয়েছিলেন যা তার নিজের ছিল না। আবার একই সঙ্গে আমি এটাও wish করি যে তিনি যদি কিছু জিনিস অন্যভাবে করতেন! আর এখন আমি নিজে একটি বাচ্চা বড় করছি, আমার কাছে থাকা তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, এবং বুঝতে পারছি যে ভালোবাসার সঙ্গে কতটা অনিশ্চয়তা জড়িয়ে থাকে। আপনি পড়তে পারেন, গবেষণা করতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন, সাবধানে চিন্তা করতে পারেন—তবুও ভুল হতে পারে। অনেক সময় ভুলটা আমরা বুঝতে পারি অনেক পরে।
আমি আশা করি আমাদের বাচ্চারাও আমাদের চেয়ে ভালো কিছু করবে। ৩৬ বছর বয়সে আমি চারটি ভাষা বলতে পারি; অথচ আমার ছয় বছরের ছেলেটি ইতিমধ্যেই সাতটি ভাষা বলতে পারে এবং একটি পাগল robot-এর মতো অংক কষে। আমি আর পেরে উঠছি না। আমার বন্ধুরা বলে সে নিশ্চিতভাবেই আমার ছেলে।
কিন্তু সে তো আর আমি নই। সে হলো আমারই version 2.0 এবং তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। আশা করি এই update-টির সঙ্গে কিছু দরকারি উন্নতিও যুক্ত আছে।
আমার ছোট ভাই এখন প্রথমবার বাবা হয়েছে। আমার চেয়েও অনেক বেশি গবেষণা ও তথ্যের নাগাল তার আছে। পাশাপাশি তার কাছে উপচে পড়ছে অজস্র উপদেশ—যার বেশির ভাগই এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়া হয়, যেন তারা একাই শৈশবের সব রহস্য সমাধান করে ফেলেছেন। এগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়া নিজেই একটা full-time job হয়ে উঠতে পারে।
তাই আমি দশটি নিবন্ধের একটি series লিখছি: একটি ভূমিকা, বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর ছয়টি গভীর আলোচনা, এবং এমন তিনটি দৈনন্দিন পরিস্থিতি যেখানে আমরা তুলনা করে দেখব বাবা-মায়েরা কীভাবে সাড়া দিতে পারেন—এবং সেই প্রতিক্রিয়াগুলো বাবা-মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে।
প্যারেন্টিং বলতে আমরা কী বুঝি?
কোনো একটা parenting style বেছে নেওয়ার আগে, আমরা যখন “প্যারেন্টিং” বলি তখন আসলে ঠিক কী নিয়ে কথা বলছি?
প্যারেন্টিং হলো একটি বাচ্চার যত্ন নেওয়া, তাকে নিরাপদে রাখা, তাকে শিখতে সাহায্য করা এবং ধীরে ধীরে তাকে নিজের কাজ নিজে করতে সাহায্য করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখানে কিছু দৃশ্যমান কাজ আছে: খাবার, জামাকাপড়, স্কুল, appointment, ঘুম। আবার কিছু কম দৃশ্যমান কাজও আছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা খেয়াল করা। শোনা। সীমা নির্ধারণ করা। কোনো ভুল হলে কীভাবে তা সামলাতে হয় তা বাচ্চাটিকে দেখানো। যে কাজটি আপনি নিজে অনেক দ্রুত করে ফেলতে পারেন, সেটি তাকে চেষ্টা করার সুযোগ দেওয়া।
ছোট বাচ্চাদের জন্য লালন-পালনের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা, responsive caregiving এবং শেখার সুযোগ। Responsive caregiving মানে বাচ্চার সংকেতগুলো খেয়াল করা এবং সে অনুযায়ী সাড়া দেওয়া। সহজ কথায়: বাচ্চাটির এমন কাউকে প্রয়োজন যে তাকে খেয়াল করবে, শেখাবে এবং শেখার সময় তার পাশে থাকবে। WHO-এর nurturing care framework
এর মধ্যে boundary নির্ধারণও অন্তর্ভুক্ত। বাচ্চাদের পছন্দ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা দরকার, তবে তাদের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বয়স্কদেরও প্রয়োজন, যা নেওয়ার মতো ক্ষমতা তাদের এখনও হয়নি। কৌতূহলজনক বিষয় হলো আমরা কীভাবে সেটি করি।
ধরে নিন একটি বাচ্চা tablet বন্ধ করতে রাজি হচ্ছে না।
একজন অভিভাবক শাস্তির হুমকি দিচ্ছেন। অন্যজন বলছেন, “আর পাঁচ মিনিট,” যতক্ষণ না সেই পাঁচ মিনিট একটা গোলমেলে philosophical concept হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যজন device-এর সব setting এবং সিদ্ধান্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন। আরেকজন বলছেন, “আমি জানি তুমি আরও দেখতে চাও। তবে tablet-এর সময় শেষ।”
একই tablet। একই অসম্মতি। কিন্তু বাচ্চাটির কী প্রয়োজন এবং অভিভাবকের কাজ কী—তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা।
চারটি প্রচলিত প্যারেন্টিং স্টাইল
গবেষকরা সাধারণত দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে parenting style ব্যাখ্যা করেন: উষ্ণতা (warmth) এবং চাহিদা বা শাসন (demandingness)। উষ্ণতা বলতে বোঝায় ভালোবাসা আর কতটুকু সহজে বাচ্চার কাছে সাড়া দিচ্ছি। আর চাহিদা বলতে বোঝায় আমরা তার কাছে কেমন নিয়ম বা প্রত্যাশা রাখছি। দুটি মিলে এমন একটা environment তৈরি করে যার মধ্যে নিয়মগুলো চলে। APA-এর parenting styles overview
“চাহিদা” শব্দটা শুনলে মনে হতে পারে খুব কড়া কিছু বুঝি। এখানে এর অর্থ সকালের নাশতার আগেই সাতটি ভাষা বা কঠিন কোনো পড়াশোনার চাপ দেওয়া নয়। এর অর্থ হলো বাচ্চার কাছে সঠিক প্রত্যাশা রাখা, একটা নির্দিষ্ট গণ্ডি বা কাঠামো তৈরি করে দেওয়া এবং সেটা ধরে রাখা।
প্রথাগত কাঠামোতে মূলত চার ধরনের style-এর কথা বলা হয়:
- অথরিটেটিভ (Authoritative): ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার নিয়ম ও প্রত্যাশার মেলবন্ধন।
- অথরিটেরিয়ান (Authoritarian): বাচ্চার মতামতকে পাত্তা না দিয়ে শুধু কড়া শাসন আর হুকুমের ওপর জোর দেওয়া।
- পারমিসিভ (Permissive): অনেক ভালোবাসা দেয়, কিন্তু নিয়মকানুন বা সামলে চলার ব্যাপারে বেশ ঢিলেঢালা।
- আনইনভলভড (Uninvolved): বাচ্চার খোঁজখবর খুব একটা নেয় না, নিজের মতো চলতে দেয়।
প্রথম দুটোর নাম এত কাছাকাছি যে যারা এগুলো ঠিক করেছেন, তাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে ইচ্ছে করে! এই তফাতগুলো পরিষ্কার করতে আট বছরের একটা বাচ্চার জুস ফেলে দেওয়ার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেখা যাক।
এই ছবিগুলো বারবার দেখা যায় এমন প্যাটার্ন বোঝায়; একবারের একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েই কোনো parenting style নির্ধারণ করা যায় না।
- অথরিটেটিভ: বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, সে যেন নিজে একটু হাত লাগায় সেই উৎসাহ দেয় এবং পরের বার কীভাবে সাবধানে গ্লাস ধরতে হবে তা বুঝিয়ে বলে।
- অথরিটেরিয়ান: এই ভুলটাকে একটা শাস্তি পাওয়ার সুযোগ বানিয়ে ফেলে!
- পারমিসিভ: হয়তো জুস পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তখনকার মতো ঝামেলা এড়াতে নিজেই সব হুটহাট পরিষ্কার করে দেয়, কিন্তু সক্ষম বাচ্চাটিকে নিজের কাজটা নিজে করার কোনো সুযোগই দেয় না।
- আনইনভলভড: বাচ্চাটার দিকে ফিরেও তাকায় না, সাহায্য তো দূরের কথা। এটাকে কি আর যাই হোক স্বাধীনতা দেওয়া বলে? না!
মূল কথা হলো আপনার সঙ্গে বাচ্চার প্রতিদিনের সম্পর্কটা কেমন, সেটাই আসল; মাঝেমধ্যে কোনো এক ক্লান্ত মা বা বাবা হয়তো কোনো শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে নিজেই জুস মুছে ফেললেন—তা দিয়ে পুরো প্যারেন্টিং মাপা যায় না।
হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং এবং জেন্টল প্যারেন্টিং
আজকাল প্যারেন্টিং নিয়ে কথা উঠলেই দুটো নতুন শব্দ খুব শোনা যায়: helicopter parenting আর gentle parenting। এগুলোর আলাদা কোনো বাক্স নেই, বরং আগের classic style-গুলোর সঙ্গেই এগুলো ঘুরেফিরে আসে।
Helicopter parenting মানে হলো একটু বেশিই বেশি করা বা অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া: অর্থাৎ যে কাজগুলো একটা বাচ্চা নিজে একটু সাহায্য নিয়ে করতে পারত, অভিভাবক নিজেই সেটা করে দেন বা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। জুস পড়ার উদাহরণটার কথাই ধরুন—বাচ্চাটা একটু বড় হয়েছে, সে নিজেই গ্লাসটা ধরতে পারে, কিন্তু আপনি ভয়ে তাকে সেটা ধরতেই দিলেন না, পাছে পড়ে যায়!
একটু খেয়াল রাখা বা বাচ্চার পক্ষ হয়ে লড়াই করা ভালো জিনিস। কিন্তু আমাদের সাহায্য কি বাচ্চাটিকে আরও বেশি অংশ নিতে দিচ্ছে, নাকি তার নিজের চেষ্টা আটকে দিচ্ছে? গবেষণায় overparenting-এর সঙ্গে anxiety এবং অন্য কিছু সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যদিও এই সম্পর্ক প্রমাণ করে না যে overparenting একাই সেগুলোর কারণ। এই গবেষণার বড় অংশই older adolescent ও young adult-দের নিয়ে। Overparenting এবং mental health নিয়ে meta-analysis
Gentle parenting মূলত সহানুভূতি আর সম্মান দিয়ে বাচ্চার কথায় সাড়া দেওয়ার ওপর জোর দেয়, যদিও সবাই শব্দটি একইভাবে ব্যবহার করেন না। জুস পড়ে যাওয়ার সময় একজন gentle parent হয়তো এভাবে বলবেন: “আরে, তুমি তো বেশ চমকে গেছ! জুস পড়ে গেছে তো কী হয়েছে, চলো আমরা দুজনে মিলে এটা পরিষ্কার করে ফেলি।” Gentle parenting নিয়ে গবেষণা
এটা কি ঠিক আগের সেই authoritative style-এর মতোই শোনাল?
হ্যাঁ, একদম!
এই style-গুলো অনেক সময় মিলে যায়।
এই ছবিগুলো বারবার দেখা যায় এমন প্যাটার্ন বোঝায়; একবারের একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েই কোনো parenting style নির্ধারণ করা যায় না।
বাচ্চা কষ্ট পেয়েছে বা তার একটা অনুভূতি হয়েছে মানে এই নয় যে আপনি ঘরের সব নিয়ম বা discipline বিসর্জন দেবেন। “তুমি এখন বেশ রেগে আছ, কিন্তু আমি তোমাকে কাউকে মারতে দেব না”—এই দুটো কথাই একই সঙ্গে বলা সম্ভব।
সুপারমার্কেটে দাঁড়িয়ে আপনি বুঝতে পারছেন বাচ্চা একটা জিনিস কেনার জন্য ভীষণ বায়না করছে, এবং আপনি সেটা কিনবেন না। সে হয়তো মন খারাপ করে কাঁদবে, আপনারও চারপাশে লোকজন থাকায় বেশ বিব্রত লাগবে। কিন্তু একটা সুন্দর গণ্ডি বা নিয়ম ধরে রাখার মানে এই নয় যে বাচ্চা সঙ্গে সঙ্গে খিলখিল করে হেসে উঠবে! আর আমরা চাইলেও সবসময় রূপকথার মতো ঠান্ডা মাথায় বাচ্চাদের সামলাতে পারব না।
বাবা-মাও মানুষ
আমরা যখন বাচ্চাদের সামলাই, তখন অজান্তেই আমাদের নিজেদের ছোটবেলাটা আমাদের পিছু নেয়। আমরা সম্মান বলতে কী বুঝেছি, নিরাপত্তার ভয়, টাকার tension, ক্লান্তি এবং যেটুকু support আমাদের আছে বা নেই—সবকিছু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। অনেক সময় নিজের মুখ থেকেই এমন কিছু কথা বের হয়ে আসে যা আমরা জীবনেও মুখে আনব না বলে শপথ করেছিলাম!
তো এসব দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বরং এটা নিজের ভেতরের pattern-গুলো একটু খেয়াল করার সুযোগ দেয়। একটা খারাপ দিন বা একটা বাজে দুপুর দিয়ে পুরো parenting judge করা যায় না।
আর বাচ্চাটার দিকটাও তো দেখতে হবে। একটা ছোট্ট toddler আর একটা teenager-এর চাহিদা তো এক হতে পারে না। বাচ্চার মেজাজ কেমন, তার disability বা communication need আছে কি না, সে কোন culture ও circumstances-এ বড় হচ্ছে—সবকিছুই মাথায় রাখা দরকার। এক বাচ্চার জন্য যে সাহায্য জরুরি, অন্য বাচ্চার জন্য সেটাই হয়তো গায়ে পড়ে বিরক্ত করার শামিল!
বিপদের হাত থেকে বাঁচানো, দরকারি accommodation দেওয়া বা কোনো inaccessible কাজ করতে সাহায্য করা মানেই helicopter parenting নয়। আবার একটা বাচ্চা একদম চুপচাপ মানেই সে খুব ভালো আছে, আর যে খুব loud সে খুব খারাপভাবে বড় হচ্ছে—এমনটাও কিন্তু নয়।
পুরো series জুড়ে আমি দেখতে চাই, আমরা বাচ্চাদের আসলে কী দিতে চাই: একটু মমতা, predictability, মনোযোগ, তাদের মনের অবস্থাটা বোঝা এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর ছোট্ট একটা সুযোগ।
পাশাপাশি, আমি চাই বাবা-মায়েরা নিজেদেরও একটু মানুষ হিসেবে ছাড় দিন। আমাদেরও তো একটা limit আছে। আমরাও ভুল করে ক্ষমা চাইতে পারি, কোনো নিয়ম দরকার হলে বদলাতে পারি, কারও সাহায্য চাইতে পারি বা আজকের দিনটা খারাপ গেছে তো কী হয়েছে, কাল আবার নতুন করে শুরু করতে পারি।
এমন কোনো জাদুকরী উপায় কি আসলেই আছে যা guarantee দেবে যে আমাদের বাচ্চাদের বড় হয়ে কোনো দিন কোনো therapist-এর কাছে যেতেই হবে না? এমনটা হয়তো হবে না। তবে বড়দের আরাম বা মানসম্মান বাঁচানোর জন্য বাচ্চা সবসময় যথেষ্ট “ভালো আচরণ” করল কি না—শুধু এটুকুই যেন আমাদের একমাত্র মাপকাঠি না হয়।
তাহলে, আমরা আসলে কোন parenting style follow করছি—সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে, আসুন খুব পরিচিত একটা মুহূর্ত দিয়ে ভাবা শুরু করি:
যখন আমার বাচ্চার কোনো চাহিদার সঙ্গে আমার নিজের দরকার বা মেজাজ হুট করে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়, তখন আমি ঠিক কী করি?