Name it clearly · notice the pattern
“তুমি বেশি সেনসিটিভ”
গ্যাসলাইটিং কীভাবে আত্মসন্দেহ তৈরি করে, অটিস্টিক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্যাটার্নটি বোঝা কেন কঠিন হতে পারে, এবং মতভেদ ও ম্যানিপুলেশনের পার্থক্য কী।
- Published
- Last reviewed

আমাকে বহুবার বলা হয়েছে, আমি নাকি বেশি সেনসিটিভ। আমার সিবলিং বলেছে। প্যারেন্টস বলেছে। ফ্রেন্ডস বলেছে। আমাকে এটাও বলা হয়েছে যে আমার মেমোরি ঠিক নেই। আমি একই ঘটনা একেকবার একেকভাবে বলি। আমি যেভাবে কোনো কিছু মনে রেখেছি, সেটা নাকি সেভাবে ঘটেইনি। দরকার হলে অন্যরাও এসে তাদের ভার্সনকে সাপোর্ট করবে—কারণ সবাই নাকি জানে, আমি জিনিস ভুল মনে রাখি। যখন একই কথা বারবার, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শুনতে হয়, তখন একসময় নিজের ওপর সন্দেহ হওয়া শুরু হয়। হয়তো আমিই বেশি সেনসিটিভ। হয়তো আমিই বাড়িয়ে বলছি। হয়তো আমার মেমোরিই ভুল। হয়তো পুরো ঘটনাটাই আমি নিজের মাথায় তৈরি করেছি। আর ঠিক এই জায়গাটাতেই গ্যাসলাইটিং কাজ করে।
গ্যাসলাইটিং আসলে কী?
গ্যাসলাইটিং শুধু কারও সঙ্গে একমত না হওয়া নয়। কারও মেমোরি ভুল হতেই পারে। দুজন মানুষ একই ঘটনা আলাদাভাবে মনে রাখতেই পারে। একজন মানুষ কোনো আর্গুমেন্টে ডিফেন্সিভও হয়ে যেতে পারে। একটি রুড কমেন্ট বা খারাপ রিঅ্যাকশন মানেই গ্যাসলাইটিং নয়। গ্যাসলাইটিং হলো একটি রিপিটেড প্যাটার্ন। এই প্যাটার্নে একজন মানুষ বারবার তোমার মেমোরি, ফিলিংস বা রিয়েলিটিকে অস্বীকার করে, ছোট করে দেখে অথবা নিজের সুবিধামতো বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত তুমি নিজের জাজমেন্টের চেয়ে তার ভার্সনকেই বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করো। কথাগুলো অনেক সময় খুব পরিচিত শোনায়:
“তুমি বেশি সেনসিটিভ।”
“এটা কখনোই ঘটেনি।”
“তুমি নিজের মাথায় এসব বানাচ্ছ।”
“তুমি সব সময় ওভাররিঅ্যাক্ট করো।”
“আমি তো শুধু জোক করছিলাম। তুমি জোক নিতে পারো না?” একটি বাক্য একবার বলা হলেই সেটি গ্যাসলাইটিং হয়ে যায় না। দেখতে হবে, এটি কি একটি প্যাটার্ন? মানুষটি কি বিশেষ করে তখনই তোমার মেমোরি বা রিয়েলিটিকে অস্বীকার করে, যখন তাকে নিজের কাজের অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিতে বলা হয়? প্রতিটি কঠিন কনভারসেশনের শেষে কি তুমি আগের চেয়ে আরও বেশি কনফিউজড হয়ে ফিরে আসো? কারণ গ্যাসলাইটিংয়ের সবচেয়ে বড় চিহ্ন শুধু কথাগুলো নয়। কথাগুলো তোমার ভেতরে কী করছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
যখন তুমি নিজেকেই দোষী ভাবতে শুরু করো
আমি অনেক সময় অন্য কাউকে দোষ দেওয়ার জন্য গিল্টি অনুভব করেছি। নিজের ওপর রাগ করেছি—কেন আমি নিজের মাথার ভেতর এমন একটি সিচুয়েশন তৈরি করলাম? আমি প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাপোলজাইজ করেছি। বিশেষ করে যখন আমি মনে করতে পারিনি অন্য মানুষটি ঠিক কোন ঘটনার কথা বলছে, অথবা যখন আমার মেমোরির সঙ্গে তার বর্ণনা মেলেনি। তখন আমার কাছে নিজের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো শক্ত কিছু থাকত না। শুধু একটি অনুভূতি থাকত—কিছু একটা ঠিক নয়। কিন্তু সেই অনুভূতিকেও বিশ্বাস করতে পারতাম না। আমি পুরোনো কনভারসেশন বারবার চেক করেছি। মেসেজ পড়েছি, আবার পড়েছি। বোঝার চেষ্টা করেছি, আমার কথা কীভাবে অন্যভাবে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কোন শব্দটি ভুল ছিল? কোন লাইনে আমি রুড হয়ে গেলাম? কোথায় আমার আইডিয়াটি ভুল ছিল?
নিজের ভুল খুঁজে দেখা খারাপ কিছু নয়। সেলফ-রিফ্লেকশন জরুরি। কিন্তু যখন প্রতিটি কনফ্লিক্টের শেষে শুধু একজন মানুষই নিজের প্রতিটি কথা, প্রতিটি মেমোরি এবং প্রতিটি ফিলিংস নিয়ে সন্দেহ করতে থাকে, তখন সেটি আর হেলদি সেলফ-রিফ্লেকশন থাকে না। সেটি ধীরে ধীরে নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা হয়ে যায়।
প্যাটার্নটি বুঝতে আমার সময় লেগেছে
আমার কারেন্ট থেরাপিস্টের সঙ্গে প্রায় ত্রিশটি সেশনের পর আমি একটি জিনিস বুঝতে শুরু করি। এই ঘটনাগুলো র্যান্ডম ছিল না। কিছু নির্দিষ্ট মানুষ একই কাজ বারবার করত। সব সময় নয়—বিশেষ করে তখন, যখন তারা কোনো আর্গুমেন্টে কর্নারড হয়ে যেত। যখন তাদের কোনো কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হতো অথবা তাদের অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিতে হতো, তখন হঠাৎ আর্গুমেন্টের বিষয় বদলে যেত। আলোচনা আর তাদের কাজ নিয়ে থাকত না। আলোচনা হয়ে যেত আমার সেনসিটিভিটি নিয়ে। আমার মেমোরি নিয়ে। আমার টোন নিয়ে। আমি কীভাবে কথাটি বলেছি, সেটা নিয়ে। একসময় আমি কী বলতে চেয়েছিলাম, সেটি আর গুরুত্বপূর্ণ থাকত না। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত—আমি আদৌ নিজের রিয়েলিটিকে বিশ্বাস করার যোগ্য কি না।
থেরাপির সাহায্যে আমি বুঝতে শুরু করি, এটি শুধু একটি ভুল বোঝাবুঝি নয়। এটি এমন একটি প্যাটার্ন, যেটি কিছু মানুষ আর্গুমেন্ট থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা নিজেদের পুরোনো হ্যাবিটের কারণে হোক, এর ইফেক্ট একই হতে পারে: অন্য মানুষটি নিজের ওপর সন্দেহ করতে শুরু করে।
অটিস্টিক অ্যাডাল্টদের জন্য এটি বোঝা আরও কঠিন হতে পারে
ডায়াগনোজড বা আনডায়াগনোজড—অনেক অটিস্টিক অ্যাডাল্টের জন্য গ্যাসলাইটিং চিনতে পারা বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে। ছোটবেলা থেকেই হয়তো অন্যরা তোমাকে কারেক্ট করে এসেছে। তুমি নাকি মানুষের কথা ভুল বুঝেছ। তুমি নাকি টোন ধরতে পারোনি। তুমি নাকি খুব লিটারেল। তোমার রিঅ্যাকশন নাকি সিচুয়েশনের তুলনায় বেশি। তোমার সেন্সরি ওভারলোডকে হয়তো “ড্রামা” বলা হয়েছে। তোমার শাটডাউনকে “অ্যাটিটিউড” বলা হয়েছে। তোমার বার্নআউটকে “আলসেমি” বলা হয়েছে। তখন অন্য কেউ যদি বলে, “তুমি ঘটনাটি ভুল বুঝেছ,” সেটি খুব পরিচিত শোনায়। কারণ সারাজীবন ধরেই তো শোনা হয়েছে যে অন্যরা সোশ্যাল সিচুয়েশন আমার চেয়ে ভালো বোঝে।
মিক্সড মেসেজ বোঝা কঠিন হতে পারে। কেউ মুখে এক কথা বললেও তার আচরণ অন্য কিছু বোঝাতে পারে। লিটারেল থিংকিংয়ের কারণে ম্যানিপুলেশন ধরা কঠিন হতে পারে। ওভারলোড, শাটডাউন বা বার্নআউটের সময় নিজের কথাগুলো গুছিয়ে বলা বা কোনো ঘটনার ডিটেইল মনে করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। আর একজন ম্যানিপুলেটিভ মানুষ ঠিক এই দুর্বল মুহূর্তগুলোই ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সাপোর্টের প্রয়োজন হওয়া তোমার রিয়েলিটিকে কম ভ্যালিড করে না। সব ডিটেইল মনে না থাকা মানে এই নয় যে ঘটনাটি ঘটেনি। নিজের এক্সপেরিয়েন্স বোঝাতে অসুবিধা হওয়া মানে এই নয় যে অন্য কেউ তোমার হয়ে সেই এক্সপেরিয়েন্সের অর্থ ঠিক করে দেবে।
সব ডিসএগ্রিমেন্ট গ্যাসলাইটিং নয়
এটি বলা খুব জরুরি—কারণ এখন গ্যাসলাইটিং শব্দটি এত বেশি ব্যবহার করা হয় যে অনেক সময় সাধারণ ডিসএগ্রিমেন্টকেও গ্যাসলাইটিং বলা হয়ে যায়। দুজন মানুষ একই ঘটনা আলাদাভাবে দেখতে পারে। তারা কোনো ঘটনার অর্থ নিয়ে একমত না-ও হতে পারে। তারা রেগে যেতে পারে, ফ্রাস্ট্রেটেড হতে পারে, এমনকি ভুল কথাও বলে ফেলতে পারে। হেলদি ডিসএগ্রিমেন্ট সব সময় শান্ত, সুন্দর বা পারফেক্ট হয় না। কিন্তু সেখানে তোমাকে নিজের রিয়েলিটি ত্যাগ করতে হয় না। একটি হেলদি ডিসএগ্রিমেন্টে বলা যেতে পারে:
“আমি ঘটনাটি অন্যভাবে মনে রেখেছি।”
“আমি তোমার কথার সঙ্গে একমত নই, কিন্তু বুঝতে পারছি এটি তোমাকে হার্ট করেছে।”
“আমার ইনটেনশন সেটা ছিল না। কিন্তু আমার কথার ইমপ্যাক্ট যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে আমি সেটা বুঝতে চাই।” এখানে দুইজনের মেমোরি আলাদা হতে পারে, কিন্তু একজনকে ক্রেজি প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে না। নিজের ভার্সন সঠিক প্রমাণ করার জন্য অন্যজনের ফিলিংস মুছে দেওয়া হচ্ছে না। আমি আমার হাজব্যান্ড এবং কয়েকজন ফ্রেন্ডের সঙ্গে এই ধরনের সেফটি অনুভব করেছি। তাদের সঙ্গে ডিসএগ্রিমেন্ট মানে ডিসরেসপেক্ট নয়। আমরা একমত না হয়েও কথা বলতে পারি। আমি প্রশ্ন করতে পারি। নিজের কথা বলতে পারি। ভুল করলে সেটি স্বীকার করতে পারি। তারপর সম্পর্কটিকে রিপেয়ার করার চেষ্টা করতে পারি। এই সেফটি আমাকে শিখিয়েছে—একটি আর্গুমেন্টের উদ্দেশ্য সব সময় জেতা নয়। অনেক সময় উদ্দেশ্য হলো একে অন্যকে বোঝা।
আর আমি সেই একই সেফটি অন্য মানুষদের দেওয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু আমি নিজেও কি কখনো কাউকে গ্যাসলাইট করেছি?
এই প্রশ্নটিও আমাকে নিজেকে করতে হয়েছে। কারণ আমি শুধু অন্য মানুষের আচরণ নিয়ে লিখতে চাই না। আমার নিজের আচরণ নিয়েও সৎ থাকতে চাই। আমি বুঝতে পেরেছি, কিছু সময় আমি আমার হাজব্যান্ড আমার ফ্যামিলির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যে এফোর্ট দিয়েছে, সেটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিইনি। হয়তো তার এফোর্ট ছোট করে দেখেছি অথবা ধরে নিয়েছি, এটি তো তার করাই উচিত। যখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি, তখন সেটি মেনে নেওয়ার এবং রিপেয়ার করার চেষ্টা করেছি। অন্য সময়েও বুঝেছি, আমি রুড বা মিন হয়ে যাচ্ছি। আমি যতটা সম্ভব সেই সিচুয়েশনগুলো ঠিক করার চেষ্টা করেছি। আমি এমনই একজন মানুষ—নিজের ভুল বুঝতে পারলে সেটি নিয়ে কিছু করতে চাই। কিন্তু আমারও কিছু খারাপ হ্যাবিট আছে।
কখনো কখনো আমি বলে ফেলি, “তুমি কি ক্রেজি?” অথবা “আর ইউ ক্রেজি?” অনেক সময় কথাটি হালকাভাবে বা পুরোনো হ্যাবিট থেকে বের হয়ে আসে। কিন্তু আমার ইনটেনশন খারাপ না হলেও কথাটির ইমপ্যাক্ট খারাপ হতে পারে। অন্য মানুষটি অনুভব করতে পারে যে আমি তার চিন্তা বা রিয়েলিটিকে গুরুত্ব দিচ্ছি না।
“আমি ওইভাবে বলতে চাইনি”—এটি একা যথেষ্ট নয়। কারণ ভালো ইনটেনশন খারাপ ইমপ্যাক্ট মুছে দেয় না। আমি এই হ্যাবিট থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি। আর এই লেখাটি শুধু তাদের জন্য নয়, যারা গ্যাসলাইটিংয়ের ভিকটিম হয়েছে। এটি আমার মতো মানুষদের জন্যও—যারা কোনো খারাপ ইনটেনশন ছাড়াই পুরোনো হ্যাবিট, ফ্যামিলি ডায়নামিক বা শেখা ল্যাঙ্গুয়েজের কারণে অন্য কাউকে হার্ট করতে পারে। আমি চাই না কেউ আমার রিয়েলিটি মুছে দিক। কিন্তু আমি নিজেও অন্য কারও রিয়েলিটি মুছে দিতে চাই না।
অজান্তে কাউকে গ্যাসলাইট না করার জন্য কী করা যায়?
প্রথমত, শোনার আগে নিজেকে ডিফেন্ড করা বন্ধ করতে হবে। কেউ যদি বলে, “তোমার কথায় আমি হার্ট হয়েছি,” সঙ্গে সঙ্গে “তুমি বেশি সেনসিটিভ” বলার বদলে বলা যেতে পারে:
“আমি বুঝতে পারছি, কথাটি তোমাকে হার্ট করেছে।”
“আমাকে বলো, কোন অংশটি তোমার কাছে এমন লেগেছে।”
“হয়তো আমি কিছু মিস করছি।” ভ্যালিডেশন মানে এই নয় যে তোমাকে অন্য মানুষটির প্রতিটি ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হতে হবে। ভ্যালিডেশন মানে তার ফিলিংস তার কাছে সত্যি—এটি মেনে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, নিজের ল্যাঙ্গুয়েজ খেয়াল করতে হবে।
“এটা কখনোই ঘটেনি” বলার বদলে বলা যেতে পারে, “আমি ঘটনাটি অন্যভাবে মনে রেখেছি।”
“তুমি ওভাররিঅ্যাক্ট করছ” বলার বদলে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, “কোন অংশটি তোমাকে এতটা অ্যাফেক্ট করেছে?”
“তুমি ভুল বুঝেছ” বলার বদলে বলা যেতে পারে, “আমি কী বোঝাতে চেয়েছিলাম এবং তুমি কী বুঝেছ—দুটির মধ্যে হয়তো একটি গ্যাপ আছে।” তৃতীয়ত, নিজের ইমপ্যাক্টের দায় নিতে হবে। অ্যাপোলজি এমন হওয়া উচিত নয়:
“তোমার খারাপ লেগেছে বলে আমি সরি।” এখানে দায়টি আবারও অন্য মানুষটির ফিলিংসের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। তার বদলে বলা যেতে পারে:
“আমার কথায় তুমি ডিসমিসড অনুভব করেছ। আমি সরি।”
“আমি বুঝতে পারছি, আমার কথাটি রুড ছিল।”
“পরেরবার আমি অন্যভাবে বলার চেষ্টা করব।” সবশেষে, রিপেয়ার শুধু কথার মাধ্যমে হয় না। আচরণেও পরিবর্তন আনতে হয়। একই কাজ বারবার করে প্রতিবার শুধু “সরি” বললে সেটি রিপেয়ার নয়।
নিজের রিয়েলিটিতে ফিরে আসা
গ্যাসলাইটিং থেকে বের হয়ে আসার পর নিজের ওপর আবার বিশ্বাস তৈরি করতে সময় লাগে। কোনো কনভারসেশনের পর যদি তুমি আগের চেয়ে বেশি কনফিউজড হয়ে যাও, সেটি খেয়াল করো। বারবার একই প্যাটার্ন ঘটলে লিখে রাখো। সেফ হলে মেসেজ, তারিখ বা নোট সংরক্ষণ করো। এমন কারও সঙ্গে কথা বলো, যাকে তুমি বিশ্বাস করো। প্রয়োজন হলে কোনো থেরাপিস্ট বা প্রফেশনালের সাহায্য নাও। নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারো:
এই মানুষটির সঙ্গে কথা বলার পর আমি কি বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছি, নাকি আরও বেশি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি? আমার ফিলিংস কি শোনা হচ্ছে, নাকি প্রতিটি কনভারসেশনে আমাকে নিজের ফিলিংসের পক্ষে প্রমাণ দিতে হচ্ছে? মানুষটি কি নিজের ভুলের দায় নিতে পারে? নাকি প্রতিবারই শেষ পর্যন্ত সবকিছু আমার দোষ হয়ে যায়? নিজের মেমোরি সব সময় পারফেক্ট হবে না। কারও মেমোরিই হয় না। কিন্তু নিজের মেমোরি পারফেক্ট না হওয়া আর অন্য কাউকে নিজের রিয়েলিটির সম্পূর্ণ কন্ট্রোল দিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। তোমার প্রতিটি ডিটেইল মনে না থাকলেও তোমার ফিলিংস সত্যি। তুমি কোনো ঘটনা অন্যভাবে মনে রাখলেও তোমাকে সম্মান করা সম্ভব। কেউ তোমার সঙ্গে একমত না হয়েও তোমার রিয়েলিটিকে সম্মান করতে পারে।
আমি লিখছি কারণ আমি আর কারও আর্গুমেন্ট থেকে বাঁচার রাস্তা হতে চাই না। কাউকে কর্নারড লাগলেই যেন সে আমার মেমোরি, সেনসিটিভিটি বা মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বের হয়ে যেতে না পারে। একই সঙ্গে, আমিও যেন আমার ইনটেনশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কারও ইমপ্যাক্ট অস্বীকার না করি। আমি চাই না অন্য কেউ আমাকে আমার নিজের রিয়েলিটি থেকে সরিয়ে দিক। আর আমি নিজেও অন্য কাউকে তার রিয়েলিটি থেকে সরিয়ে দিতে চাই না।