বালের ভিমরুল!

চারটা হুল, বাগানের এক চূড়ান্ত অভদ্র বাধা, আর ইয়েলো জ্যাকেটের ইকোলজি নিয়ে অনিচ্ছাকৃত এক শিক্ষা।

জলরঙ ও কালির ঢঙে আঁকা ছবিতে কাব্বোর মা কাব্বোকে ঘরের ভেতর নিচ্ছেন, আর বাগানের ওপর চারটি ইয়েলো জ্যাকেট উড়ছে।

বালের ভিমরুল!

আজকে আমারে চার চারবার হুল ফুটাইছে। হইতে পারে দুইটা ভিমরুল ছিল, আবার এমনও হতে পারে একটাই সাইকো পোকা আমার পিছে একদম লেগে ছিল। আমি কিচ্ছু জানি না। আমি ব্যাকইয়ার্ডে গিয়ে স্পাইডার গ্রাস—বা যে গাছই হোক—সেটা ছাঁটতেছিলাম, আর কোনোপ্রকার ওয়ার্নিং ছাড়াই হঠাৎ কিছু একটা এসে আমাকে একদম বিঁধায়ে দিল।

প্রথমে তো আমি পুরাই কনফিউজড।

কী বাল! এই ঘাস এত ধারালো কেন?

তারপর যখন দ্বিতীয়বার ফুটাইলো, আমি ভাবলাম:

আচ্ছা, ঝিঁঝিঁ পোকা কি কামড়ায়?

কারণ “ঝিঁঝিঁ পোকা” ভাবাটা বেশি লজিক্যাল ছিল—বরং একটা ক্ষেপা পোকা যে ঘন ঘন আমার শরীরে বিষ ঢালতেছে, সেটা মানার চেয়ে!

কিন্তু তিন নম্বর হুলটা খাওয়ার পর আমার মতো মানুষেরও যথেষ্ট প্রমাণ জমে গেছিল এটা বোঝার জন্য যে, ঘাস আমাকে অ্যাটাক করতেছে না, আর ঝিঁঝিঁ পোকাও না। কিছু একটা আমাকে হুল ফুটায়া যাচ্ছে। বারবার।

ঠিক তখনই আমার নজর গেল কাব্বোর দিকে।

ও পিছনের দরজার একদম পাশেই দাঁড়ায় ছিল, কোনো খবরই নাই ওর, আর এই হারামী ভিমরুলের একদম রেঞ্জের মধ্যে!

ওকে দেখার পর আমার মধ্যে যে কী ভর করল! এক মুহূর্ত আগেও আমি বোঝার চেষ্টা করতেছিলাম যে বাগানটা হঠাৎ আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল কেন, আর পরের মুহূর্তেই আমার মাথা একদম ক্লিয়ার। কোনো দ্বিধা নাই, কোনো চিন্তা নাই, কী করব না করব ভেবে সময় নষ্ট করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

আমি সোজা দৌড়ে ভেতরে ঢুকলাম, দরজা-জানালা যা ছিল বন্ধ করলাম, কাব্বোকে ঠেলে আরেকটা রুমে পাঠায় দিলাম, আর ওর বাবাকে চিল্লায়া ডাকলাম। কয়টা ইয়েলো জ্যাকেট আমার পিছু পিছু ভেতরেও ঢুকে পড়ছিল, তাই আমি ওগুলোকে খুঁজে খুঁজে পিটায়া মারলাম—যতক্ষণ না নিশ্চিত হলাম যে সব শেষ।

সব থামার পর গিয়ে আমি শেষমেশ একটু শ্বাস নিতে পারলাম।

মানুষের মন যে কীভাবে কাজ করে! রাতে কী রান্না করব সেটা ঠিক করতে গেলে আমি রেফ্রিজারেটরের দিকে পনেরো মিনিট এমনভাবে তাকায় থাকি যেন সেলফগুলোর মধ্যে কোনো রহস্য লুকায় আছে। কিন্তু আমার বাচ্চার ওপর কোনো বিপদ আসুক—আর সাথে সাথে আমি যেন একদম কোনো অ্যাকশন হিরো হয়ে যাই!

অবশ্য খুব একটা স্টাইলিশ অ্যাকশন হিরো না। বরং চার চারটা হুলের দাগ ওয়ালা, জামাকাপড়ে বাগানের কাদা মাখা, আর একটা পোকা না পুরা কোনো গ্যাং অ্যাটাক করছে তা না জানা এক উস্কোখুস্কো চিত্কার করা হিরো!

সবাই যখন সেফ আর আমার অ্যাড্রেনালিন রাশ একটু কমতে শুরু করল, পুরো বিষয়টা ভেবে আমার বেশ হাসি পাচ্ছিল।

তারপর ভাবলাম, ইশ! যদি আরেকটাও হুল ফুটাত, কী যে খারাপ অবস্থা হতো! আমি কল্পনায় দেখলাম আমার মুখ ফুলে একবারে গোল আর মোটাসোটা হয়ে গেছে, আর মাথার মধ্যে এই ছবিটা আসতেই আমি একা একাই একটু হেসে উঠলাম।

হ্যাঁ, আমি জানি। অ্যালার্জি হওয়া কোনো হাসির বিষয় না। অ্যানাফিল্যাক্সিস খুব মারাত্মক আর খুব দ্রুত ঘটতে পারে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতে হাসতে হবে আর কোথায় গম্ভীর থাকতে হবে, আমার ব্রেইন কখনোই অত নিয়মকানুন মেনে চলে নাই। আসল আক্কেলওয়ালা সেন্স মাথায় ঢোকার আগেই আমার ব্রেইন আমাকে একটা বিচ্ছিরি ছবি এনে হাতে ধরায়া দেয়।

তবে সেন্সও শেষ পর্যন্ত আসল।

সে আমাকে মনে করায় দিল যে কাব্বোকেও তো হুল ফুটাতে পারত! আমার জামাইকেও ফুটাতে পারত! কাব্বো হয়তো প্যানিক করে আরও উঠানের দিকে দৌড়ে যেত, অথবা ঠিক কী হচ্ছে সেটাই আমাকে বুঝায়া বলতে পারত না। এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই আমার মুখের হাসি একদম গায়েব হয়ে গেল।

আমি আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলাম যে আঘাতটা আমিই খাইছি। চার চারবার! আমি সাথে সাথে পেস্ট কন্ট্রোলকে কল দিলাম, আর তারপর থেকে একটা দরজা বা জানালাও আর খুলি নাই। আমার হিসাব সোজা—প্রফেশনাল এসে উদ্ধার না করা পর্যন্ত ব্যাকইয়ার্ডের মালিক এখন ওই ইয়েলো জ্যাকেটগুলোই।

অবশ্যই, ঝামেলাটা সাময়িক মিটে যাওয়ার পর আমি সেটাই করলাম যা আমি সবসময় করি: রিসার্চ শুরু করলাম! কারণ এই ছোট ছোট উড়ন্ত শয়তানগুলো প্রথমত আমাকে কেন অ্যাটাক করতে গেল? এদের সমস্যাটা কী? আমি তো খালি ঘাস কাটতেছিলাম! আমি তো আর এদের রাজ্য দখল করতে যাই নাই!

জানতে পারলাম, ইয়েলো জ্যাকেট নাকি মাটির নিচে বা অন্য কোনো অন্ধকার, সেফ জায়গায় বাসা বানায়। ঘন গাছপালার কারণে বাসার মুখ দেখা কঠিন হয়ে যায়। যদি ওই স্পাইডার গ্রাসের নিচে বা আশেপাশে কোনো বাসা থেকে থাকে, তবে ঘাস কাটা আর নাড়াচাড়া দেখে ওদের মনে হইছে কোনো বিশাল প্রেডেটর এসে ওদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে চাইছে।

সো, ওদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখলে, ওরা কিন্তু শান্তিতে থাকা এক নির্দোষ মহিলার ওপর অযথা হামলা চালায় নাই। ওরা ওদের বাসা বাঁচাতেছিল। ব্রেইন দিয়ে আমি বিষয়টা বুঝি। কিন্তু ইমোশনালি, ওরা চুদে মরুক!

এর চেয়েও বিরক্তিকর আবিষ্কার ছিল—ইয়েলো জ্যাকেট নাকি একেবারে ফালতুও না! ওরা নাকি অন্য পোকা-মাকড়, এমনকি শুয়োপোকা আর মাছি শিকার করে খায়, আর বাগান বা ফসলের ক্ষতি করে এমন পোকা কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে। বড়গুলো নাকি ফুলের মধুও খায় আর পরাগায়নেও হেল্প করে। ওদের একদম গায়েব করে দেওয়া মানে নাকি ইকোসিস্টেমের এক ফ্রি পেস্ট কন্ট্রোলকে সরায়া দেওয়া!

তো এখন নাকি আমাকে ওদের রেসপেক্টও করতে হবে! জাস্ট ওয়ান্ডারফুল!

আমি ইকোসিস্টেমে ওদের গুরুত্ব মানতে পারি, কিন্তু একই সাথে এটাও বিশ্বাস করি যে আমার দরজার পাশে থাকা কলোনিটা একদম একটা বাজে অ্যাড্রেস পছন্দ করছে। আমার বাচ্চার নাগালের বাইরে গিয়ে যেখানে ইচ্ছা ওরা ইকোসিস্টেমের সেবা করুক, কোনো সমস্যা নাই।

এই কারণেই আমি ফুটন্ত পানি, পেট্রোল বা কোনো হোমমেড জিনিস গর্তে না ঢেলে পেস্ট কন্ট্রোল ডেকেছি। ডেঞ্জারাস হওয়ার পাশাপাশি, না বুঝে মাটির নিচের বাসায় ডিস্টার্ব করা মানে হলো এক ঝাঁক ক্ষিপ্ত পোকাকে সোজা নিজের মুখের ওপর ডেকে আনা!

আমি আরও জানলাম যে, ইয়েলো জ্যাকেটকে ভয় দেখানোর জন্য মানুষ যে নকল কাগজের বাসা ঝুলিয়ে রাখে, সেটার কোনো শক্ত প্রমাণ নাকি নাই! দৃশ্যত কেউ ইয়েলো জ্যাকেটদের এই পপুলার থিওরিটা জানায় নাই যে ওরা নাকি অন্য কলোনির ২০০ ফুটের মধ্যে থাকে না। বাস্তবে কাছাকাছি অনেক বাসা পাওয়া গেছে। সো, একটা ব্রাউন পেপারের ব্যাগ আর পজিটিভ থিংকিং দিয়ে প্রবলেম সলভ করার চিন্তা এখানেই শেষ!

আপাতত, আমি হুলের জায়গাগুলো সাবান আর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলেছি আর ব্যথা ও ফোলা কমানোর জন্য কোল্ড প্যাক ব্যবহার করেছি। যেহেতু সমস্যাটা শুধু ওই নির্দিষ্ট জায়গাতেই ছিল, তাই নরমাল ফার্স্ট এইডই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু শ্বাসকষ্ট, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে অ্যালার্জি ওঠা, মাথা ঘোরা, বমি হওয়া বা পালস কমে যাওয়া—এসব হলে সোজা ইমার্জেন্সিতে কল দেওয়া দরকার ছিল, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ফোলা মুখ দেখে হাসার সময় থাকত না!

আমি বাইরের ডাস্টবিনগুলোও শক্ত করে আটকে রাখছি আর খেয়াল রাখছি যাতে বাইরে কোনো খাবার, মিষ্টি ড্রিঙ্কস বা পচা ফল জমে না থাকে—বিশেষ করে লেট সামারে, যখন ইয়েলো জ্যাকেট মানুষের খাবারের দিকে বেশি নজর দেয়।

আমার অবস্থা দেখো! চারবার হুল খেয়েও কীভাবে এক শান্তিকামী প্রতিবেশী হওয়া যায় তা শিখতেছি!

তবে সেটা অবশ্যই বন্ধ দরজার ওপার থেকেই। এই সব আলোচনা পেস্ট কন্ট্রোলই সামলাক!